ঢাকা, বুধবার ৩০, সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪:২০:০৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
রাজধানীতে চড়া ফলের বাজার, নজরদারির আশ্বাস গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত ইয়েমেন, টিকে থাকতে স্কুল ছেড়ে কাজে শিশুরা বিশ্ব হৃদরোগ দিবস: দেশে হৃদরোগে প্রতিদিন প্রায় ৭৭৭ জনের মৃত্যু দেশের বাজারে ফের কমলো সোনার দাম ঢাকার বাতাস আজ ‘অস্বাস্থ্যকর’ সেমিফাইনালে উঠল বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে ফের নিম্নচাপ, ৩ নম্বর সতর্কতা

রাজধানীতে চড়া ফলের বাজার, নজরদারির আশ্বাস 

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৫৯ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর কাছে একসময় নিয়মিত খাদ্যতালিকার অংশ ছিল বিভিন্ন ধরনের ফল। এখন বাড়তি দামের কারণে সেই ফল যেন হয়ে উঠেছে অনেক পরিবারের কাছে বিলাসিতা বা স্বপ্নের বিষয়। রাজধানীর ফলের বাজারে দামেই প্রথম ধাক্কা খান ক্রেতারা।

আপেল, মাল্টা, কমলা, আঙুর ও নাশপাতির মতো আমদানিনির্ভর ফলের দাম গত কয়েক সপ্তাহে আরো বেড়েছে। দেশীয় ফলের মধ্যেও পেঁপে ও পেয়ারার দাম আগের তুলনায় চড়া। এ কারণে সাধারণ ক্রেতারা আগের মতো একসঙ্গে কয়েক ধরনের ফল কিনছেন না; বরং হিসাব করে একটি বা দুটি ফলেই সীমাবদ্ধ থাকছেন।

এমন পরিস্থিতিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি সহ্য করা হবে না। বাজার তদারকি জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তবে, ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, শুধু অভিযান দিয়ে নয়, শুল্ক, সরবরাহব্যবস্থা ও বাজারের অস্বচ্ছতার মতো কাঠামোগত সমস্যার সমাধানেও জোর দিতে হবে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, আজিমপুর ও মিরপুরের খুচরা বাজারে দেখা গেছে, আপেল ৩৫০-৪০০ টাকা, মাল্টা ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকা, কমলা ২২০ থেকে ৩৪০ টাকা, আঙুর ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং নাশপাতি ৩৩০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে। দেশীয় ফলের মধ্যে পেয়ারা ৬০ থেকে ১০০ টাকা, পেঁপে ৯০ থেকে ১২০ টাকা কেজি এবং সবরি কলা প্রতি হালি ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আজিমপুরে ফল কিনতে আসা ক্রেতা করিম উদ্দিন বলেন, “আগে বাচ্চাদের জন্য সপ্তাহে দুই-তিন রকম ফল কিনতাম। এখন আপেল কিনতেই ৩০০ টাকা চলে যাচ্ছে।”

মিরপুরে থাকেন বেসরকারি চাকরিজীবী ইমরান হোসেন বলেন, “বেতন বাড়েনি, কিন্তু ফলের বাজারে প্রতিদিনই নতুন করে বাড়তি দাম শুনতে হচ্ছে।”

মিরপুর ১ নম্বরে ফলের বাজারে কথা হলে তহুরা বলেন, ‍“রাজধানীর বাজারে প্রতিটি জিনিসের দামই চড়া। বাজারে কোনো সবজি ১০০ টাকার নিচে নেই। ফলের বাজারও চড়া। সন্তানের জন্য এখন প্রায়ই ফল কিনতে হয়।বাজারে আপেলের কেজি ৪০০টাকার বেশি। আধাকেজি আপেল আর আধাকেজি কমলা কিনতে খরচ হয় ৪০০ টাকার বেশি। অন্য ফলের দাম জানার সহস হন না বিক্রেতাদের কাছ থেকে।”

মিরপুর-১ নম্বরে ফল কিনতে আসা ইয়াসমিন সুমি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‍“এক সপ্তাহ আগে ড্রাগন ফল কিনেছিলাম ১৫০ টাকা কেজি।  মঙ্গলবার সেই ড্রাগন ফল কিনতে হয়েছে ২৬০ টাকা কেজি দরে।”

বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভার পর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “বাজারে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না। কেউ অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে সরকার ব্যবস্থা নেবে।”

তিনি জানান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে বাজার তদারকি আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয় ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের অজুহাতে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো যাবে না।

তবে, ব্যবসায়ীরা বলছেন, দামের পেছনে বড় কারণ হলো নতুন শুল্ক কাঠামো ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আমদানিকৃত ফলের ওপর ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করেছে। এর সঙ্গে ডলারের উচ্চ বিনিময় হার, ব্যাংক চার্জ, বন্দর ব্যয় ও পরিবহন খরচ যুক্ত হয়ে আমদানির মোট ব্যয় বেড়েছে।

বাদামতলী ঘাটের ফল আমদানিকারক শফিক মোল্লা বলেন, “শুল্ক বাড়ার পর আগের দামে ফল বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। ডলার, ব্যাংক চার্জ ও পরিবহন- সব মিলিয়ে খরচ বেড়েছে।”

বাজারসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, পাইকারি বাজার থেকে খুচরা পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে ৩০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। বিক্রেতারা দোকান ভাড়া, শ্রমিক মজুরি ও ফল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকির কথা বললেও ভোক্তাদের অভিযোগ, সব ক্ষেত্রেই এই ব্যবধান যৌক্তিক নয়।